তৃণমূলকে অধীরের (Adhir Chaudhury) কটাক্ষ, 'আমরা কয়লা, বালি, গরু চুরি করি না। তাই কাউকে ভয় পাই না।' - Adhir Chaudhury

মালদা: “তৃণমূল সরকারের (TMC Government) ইমামদের ভাতা আসছে ওয়াকফ বোর্ডের আয় থেকে। মাছের তেলে মাছ ভাজছে তৃণমূল।” মঙ্গলবার মালদহের হরিশচন্দ্রপুরের সভা থেকে বিস্ফোরক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী (Adhir Chaudhury)। তাঁর কথায়, “আগে ওয়াকফ বোর্ড থেকে কয়েকশো কোটি টাকা আয় হত। এখন তা কয়েক হাজার কোটিতে দাঁড়িয়েছে। সব টাকা লুঠ হচ্ছে।”

বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরেই ইমাম ভাতা চালু করে মমতার সরকার। এই পদক্ষেপকে সংখ্যালঘু তোষণ বলে অভিযোগ করে আসছে বিরোধীরা। কয়েক বছর আগে হাইকোর্ট একে ‘অসাংবিধানিক’ বলে। তবে পরে রাজ্য সরকার ঘুরপথে ওই ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করে।  মুসলিমদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে ওয়াকফ বোর্ডকে টাকা দেওয়ার জন্য নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য সরকার। হাইকোর্ট অবশ্য জানিয়েছিল ইমাম-মোয়াজ্জিমদের ভাতা দিতে হলে ওয়াকফ বোর্ডকে নিজস্ব তহবিল করে সেই কাজ করতে হবে। সেই প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেন অধীর।

এদিন সংযুক্ত মোর্চার কংগ্রেস প্রার্থী মোস্তাক আলমের সমর্থনে জনসভা থেকে তৃণমূলকে অধীরের কটাক্ষ, ‘আমরা কয়লা, বালি, গরু চুরি করি না। তাই কাউকে ভয় পাই না।’

মোদী ও মমতাকে ‘নাটকবাজ’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর অভিযোগ, এঁরা দু’জনেই সাম্প্রদায়িক। দু’জনেই বিভদের রাজনীতি করছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, তৃণমূলের হাত ধরেই বাংলায় বিজেপি এসেছে। এবং এরাই এরাজ্যে বিভেদের রাজনীতির সূত্রপাত করেছে। এই প্রেক্ষিতে ইমাম ভাতা নিয়ে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ। অধীর বলেন,”পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চলছে। মুসলিম ভোট ও হিন্দু ভোটবাক্সের কথা ভেবে মোদী-দিদি দুজনেই নাটক করছেন। কেউ খাতির করছেন মুসলিমদের তো কেউ হিন্দুদের। আর এর জেরে এ রাজ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষে বিভেদ তৈরি হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: দলিত তাস! শিল্পীদের মন পেতে ভাতা দেওয়ার ঘোষণা কৈলাসের

এদিন হরিশচন্দ্রপুরের খন্তা মাঠে সংযুক্ত মোর্চার কংগ্রেস প্রার্থী মোস্তাক আলমের সমর্থনে জনসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে অধীর ছাড়াও হাজির ছিলেন সিপিএম ও কংগ্রেস নেতারা। যদিও এই কেন্দ্রে জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক। তবে সিপিএম সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, তারা কংগ্রেস প্রার্থীর হয়েই প্রচার করবে।